ঈদে-মীলাদুন্নবী ও জশনে জুলুশ,হাজীর নাজীর,ছবি তোলা এবং ভিডিও করা।

নিম্নের কয়েকটি মাসআলার উপর আপনাদের ফাতওয়া বিভাগ থেকে শরীয়তের আলোকে
সুত্র সহকারে সমাধান দিলে চির কৃতজ্ঞ থাকবো।
শরীয়তের আলোকে ঈদে-মীলাদুন্নবী ও জশনে জুলুশের বাস্তবতা কী ?
নবী হাজীর নাজীর কি না ? এবং তিনি কিসের তৈরী নুরের না মাটির ?
তিনি গায়েব জানেন কি না ?
ছবি তোলা এবং ভিডিও করা শরীয়তের আলোকে তার বাস্তবতা কী ?
সকল পশ্নের উত্তর জানালে উপকৃত হবো।
নিবেদক
মুহাম্মদ ফোরকান মাহমুদ চট্টগ্রাম।
উত্তর:
১নং প্রশ্নের উত্তর: ঈদে-মীলাদুন্নবী তথা রাসূল স. এর জম্ম দিবসকে উপলক্ষ করে প্রতি বছর রবিউল আউয়াল মাসে,
বিশেষ করে ১২ তারিখে আনন্দ-উল্লাস,মিছিল-মিটিং,জশনে জুলুস ও ঈদ উদযাপন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
কেননা কোন একটি জিনিষকে আমলরূপে গ্রহণ করার জন্য শরীয়তের দলিল চতুষ্টের সমর্থণ জরুরী। অথচ এ ব্যাপারে কোন দলিলই পাওয়া যায় না।

পাশাপাশি ইসলামের স্বর্ণযুগ বলে খ্যাত তিন যুগ (সাহাবা, তাবেয়ীন, তাবে তাবিয়ীনদের যুগ) এবং পরবর্তী চার মাযহাবের ইমামগণের সময়ে এ আমল ছিল না।
বর্তমান প্রচলিত ঈদে-মীলাদুন্নবী স. পালন কুরআন-সুন্নাহর পাশাপাশি সাধারণ যুক্তিরও বিপরীত।
আমরা জানি ইসলামে ঈদ দুটি , অথচ মীলাদুন্নবী স. উপলক্ষে নতুন আরেকটি ঈদ আবিস্কার করা হচ্ছে।
ঘটনাচক্রে যদি কোন ব্যক্তির জম্ম ও মৃত্যু তারিখ মিলে যায় তাহলে কোন বুদ্ধিমান এবং পিতাপ্রেমীক সন্তানের পক্ষে সম্ভব নয় ঐদিনে আনন্দ-উল্লাস করা।

রাসুল স. এর জম্ম ১২তারিখে হওয়ার ব্যপারে সংশয় থাকলেও ১২তারিখে তার মৃত্যু সর্বসম্মত ভাবে স্বীকৃত, তাহলে নবী প্রেমিকগণ কিভাবে আনন্দ করবে ?
মূলত: প্রচলিত পদ্ধতিতে মীলাদুন্নবী উদযাপনের বিষয়টিই অযৌক্তিক, কেননা এখানে দু’টি জিনিষ লক্ষণীয় (১) দিবস.(২) তারিখ।

মীলাদুন্নবী দিবস হল সোমবার আর তারিখ ১২ই রবিউল আউয়াল। এখন ১২তারিখ ঠিক রাখতে গেলে সোমবার ঠিক রাখা সম্ভব নয়, কেননা প্রতি বছর ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার হয় না।
সুতরাং ঈদে মীলাদুন্নবী নামে প্রচলিত কাজ সমূহ বর্জণীয়।
রেফারেন্সঃ
( *মিশকাত শরীফ-খঃ১ পৃঃ ২৭ *ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া মুদাল্লাল-খঃ৫ পৃঃ৩৯২.)
২প্রশ্নের সমাধানবঃ-সর্বত্র হাজির-নাজির থাকা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সিফাত।
কোন নবী বা ওলী সব জায়গায় হাজির-নাজির হতে পারেন না। আল্লাহর সিফাতের সাথে বান্দাকে মিলানো কুফর ও র্শিক।
এ ধরণের বিশ্বাস দ্বারা ঈমান চলে যায়। রাসূল স. যে হাজির-নাজির নন তা কুরআন-হাদিস দ্বারা প্রমানিত।
আল্লাহ তায়ালা বলেন ঃ অর্থ -আর আপনি তো তাদেও কাছে (হাজির) ছিলেন না, যখন তারা প্রতিযোগিতা করছিল,
কে প্রতিপালন করবে মারয়ামকে, এবং আপনি তাদেও কাছে ছিলেন না যখন তারা ঝগড়া করেছিল। (সূরা আলে ইমরান-৪৪)
রাসূল স. বলেন ঃ অর্থ জমিনে বিচরণকারী আল্লাহ তায়ালার একদল ফিরিস্তা রয়েছেন
যারা আমার উম্মতের পক্ষ থেকে আমার নিকট (দরুদ) ছালাম পৌছিয়ে দেয়। (নাসাঈ শরীফ-১/১৪৩)
আমাদের প্রিয় নবী স. মানব ছিলেন। ইসলামের দলিল চতুষ্ট তথা: কুরআন,হাদীস,ইজমা,কিয়াস দ্বারা প্রমাণিত।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ অর্থ-বলুন! পবিত্র মহান আমার পালনকর্তার, একজন মানব,একজন রাসূল বৈ আমি কে ? (সূরা-বনী ইসরাঈল:৯৩)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন ঃ অর্থ- আমি মানুষকে মাটির সারংশ হতে সৃষ্টি করেছি।(সূরা-মু’মিন: ১২)
উল্লেখিত প্রথম আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় রাসূল স. মানব ছিলেন। আর দ্বিতীয় আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় মানুষ মাটির তৈরী।
সুতরাং আয়াত দু’টি দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূল স. মাটির তৈরী ছিলেন।
রাসূল স. যা বলেন ঃ অর্থ- নিশ্চয় আমি একজন মানুষ। (বোখারী শরীফ-১/৩৩২)
আর এর বিপরীত কোন ভিন্ন মত ফোকাহা ও মুফাস্সিরীনদের মধ্যে না থাকায় এ কথার উপর ইজমা প্রমাণিত হয়। বুঝা গেল রাসূল স. মানুষ ও মাটির তৈরী ছিলেন।
কিয়াস দ্বারাও প্রমাণিত রাসূল স. মাটির তৈরী ছিলেন।
কিয়াস হল: রাসূলের মাতা মানব ও মাটির তৈরী ছিলেন। রাসূলের নিকট মানবীয় সমস্ত গুনাবলী বিদ্যমান ছিল। যা একথার সুস্পষ্ট প্রমাণ রাসূল স. মানব ও মাটির তৈরী।
রেফারেন্সঃ
(*সূরা কাসাস:৪৪. *সূরা-কাহাফ:১১১. *মুসলিম শরীফ-২/৩২৪. *তাফসীরে মাজহারী-৫/৪২৮. *ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-২/২৬৬. *ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-৩/২০০.)

ইসলাম, জাতি ও মানবতার কল্যাণে